বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
এম.আর রয়েল শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা একটি ছাড়পত্র বিহীন ঢালাই কারখানার কারণে পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে জনবসতিপূর্ণ কয়েকটি গ্রামের। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে উপজেলার পাটাভোগ ইউনিয়নের ফৈনপুর গ্রামের নির্জন একটি এলাকায়। প্রতিষ্ঠানটিতে দিনে রাতে পুরোদমে রাসায়নিক চুল্লী জ¦ালিয়ে বিভিন্ন প্রকার চোরাই ধাতব পদার্থ যেমন সিসা,দস্তা,এ্যালুমিনিয়ামের বিদ্যুতের তার গলিয়ে যথারীতি বায়ু দূষন করছে। এসব চোরাই মাল গলিয়ে প্লেট আকারে তৈরি করে রাতের আধাঁরে ট্রাকে করে গোপনে পাচার হচ্ছে ঢাকার মিডফোর্টসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এছাড়াও পুরোনো বিমানের বিভিন্ন ধাতব যন্ত্রাংশ পোড়ানোর জন্য রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে পরিবেশ দুষনের ফলে বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার শিশুসহ গর্ভবতী নারী।
সরেজমিনে গিয়ে সাইনবোর্ড বিহীন ঢালাই কারখানায় দেখা যায়, রাসায়নিক চুল্লী পুরোদমে জ্বলছে, গলানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার ধাতব পদার্থ। কাজে ব্যস্ত প্রায় ১০জনের অধিক শ্রমিক। এর মধ্যে দেখা মিললো ২ জন শিশু শ্রমিকের সাথেও। ঢালাই কারখানাটির বিষাক্ত ধোয়ার উৎকট গন্ধে এর আশেপাশে অল্প কিছুক্ষন দাঁড়ানোই প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে। ম্যানেজার আঃ আলিমের (৬০) কাছে অবৈধ কারখানাটির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমাদের এ কারখানার অনুমোদনের কোন ধরনের কাগজ পত্রই নাই এটা সত্যি। তবে আমরা এ ঢালাই কারখানায় কোন ধরনের চোরাই ধাতব গলিয়ে প্লেট তৈরী করিনা। বায়ু দূষণসহ পরিবেশ বিনষ্ট করার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি জবাবে বলেন, এ কারখানার কারণে এলাকার বায়ু দূষন হচ্ছে বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। তবে সুমাইয়া সাকিয়া এন্টাপ্রাইজ নামক এ কারখানাটির প্রকৃত মালিক সোহরাব আলী সরদার (৪৫)। তিনি কোলাপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,কারখানাটি আমাদের গ্রামে স্থাপনের আগে এলাকাবাসী সবাই মিলে বাধা দিয়েছিলাম। আমাদের বাধায় কোন কাজ হয়নি। কারণ এধরনের ঢালাই কারখানার ক্ষতিকর প্রভাব আমরা আগেই জানতাম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কারখানাটি বহাল তবিয়তে রয়েছে। তবে বিষয়টি আমাদের কাছে অতি রহস্যজনক বলে মনে হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবিষয়ে আমি অবগত নই, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।